
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে আর্জেন্টিনায় আবারও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা এই কিংবদন্তির চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলার অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
আদালতে সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযুক্ত চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সদের ‘অপেশাদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় তারা দায়িত্বশীল আচরণ করেননি এবং একাধিক চিকিৎসা নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন। প্রসিকিউটরের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে অন্তত ১২ ঘণ্টা ধরে ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল, যা উপযুক্ত চিকিৎসা দিলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারত।
ম্যারাডোনার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাড়িতে বিশ্রামে ছিলেন, যেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তদারকি ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে বড় ধরনের গাফিলতি ছিল। আদালতে তার পরিবারের আইনজীবীরা একটি স্টেথোস্কোপ উপস্থাপন করে দাবি করেন, শেষ দুই সপ্তাহে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি।
প্রসিকিউটরদের মতে, অভিযুক্তরা জেনেও এমন চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে মামলাটিতে ‘ইচ্ছাকৃত হত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যার প্রমাণ মিললে আসামিদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ম্যারাডোনার মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার চূড়ান্ত পরিণতি। তারা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছিল।
এই মামলায় অন্তত ১২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে এবং আগামী জুলাইয়ের মধ্যে রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবেগঘন এই মামলাটি এখন ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।