
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২ জুলাই থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। সূচিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দীন হায়দার।
সূচি অনুযায়ী, তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (CQ) অংশ অনুষ্ঠিত হবে।
নম্বর ও সময় বণ্টনের ক্ষেত্রে, ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ব্যবহারিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এমসিকিউ এবং সিকিউ অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিরতিহীনভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টার পরীক্ষার জন্য সাড়ে ৯টায় উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। এরপর ১০টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র এবং ১০টা ৩০ মিনিটে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। একইভাবে, দুপুর ২টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে ১টা ৩০ মিনিটে প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হবে।
পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হবে। পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
এছাড়া, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও রয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী নিবন্ধনকৃত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারবে না। উত্তরপত্রে কোনো ধরনের ভাঁজ করা বা মার্জিনের বাইরে লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর এবং সাধারণ হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবে। মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া কেউ এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।
সবশেষে, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনি এবং ব্যবহারিক অংশে আলাদাভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে, অন্যথায় তাকে অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হবে।