
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি কার্যত বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পরিবর্তে এখন কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে দেওয়া ও জব্দ করার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এ অবস্থায় আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদ-এ সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। যদিও এখনো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়নি, তবুও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে তার সরকার কাজ করে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করছে, পূর্ববর্তী আলোচনার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য নেতিবাচক ছিল। তাদের দাবি, আলোচনার সময়ই তারা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে, যা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করেছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থানও স্পষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আসা বিভিন্ন বার্তায় কখনো কঠোর অবস্থান, আবার কখনো আলোচনার ইঙ্গিত—এ ধরনের দ্বৈত সংকেত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নেতৃত্বের বিভক্তি কূটনৈতিক সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। ফলে এই সংকট দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, সরাসরি যুদ্ধ থেমে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং কৌশলগত অবরোধ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আস্থার ঘাটতি মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।