ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতে ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে একাধিক সামরিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত হলে মার্কিন সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সাত সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে THAAD এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপুল ইন্টারসেপ্টরও খরচ হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ, জেএএসএসএম মিসাইলের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এবং এসএম সিরিজের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অস্ত্র সংকটের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, তবে একই সঙ্গে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে এবং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।