
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে কুয়েত তাদের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা Kuwait News Agency-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক Hamoud Mubarak জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাজনিত কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এখন ধাপে ধাপে বিমান চলাচল পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সব ধরনের ফ্লাইট স্বাভাবিক করা হবে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের সময় ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানান তিনি। এই প্রেক্ষাপটে কুয়েতের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়, যা নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
এ সময় কুয়েতকে সহায়তা করার জন্য Saudi Arabia-এর বিমানবন্দরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি United States ও Israel যৌথভাবে Iran-এর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ Strait of Hormuz-এ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে, কুয়েতের আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।