
ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর ইসরাইল এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সামরিক লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ইরানের বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে ইসরাইলি বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জটিল। ইসরাইলি দৈনিক মা’রিভ-এর সামরিক বিশ্লেষক আভি আশকেনাজি মন্তব্য করেছেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত চললেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি; বরং পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে সংঘর্ষ চলার পরও গাজা বা লেবানন—কোনো ক্ষেত্রেই ইসরাইল তার নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারেনি। বরং প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
লেবানন ফ্রন্টে পরিস্থিতি বিশেষভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেখানে ইসরাইলি বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করত, এখন সেখানে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা বেড়েছে। মিসাইল, মর্টার ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ইসরাইলি বাহিনীর ওপর চাপ ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে ইরান বিভিন্ন ফ্রন্টে সক্রিয় রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। লেবানন, গাজা এবং ইয়েমেন—এই তিনটি দিক থেকেই ইসরাইলকে একসঙ্গে চাপে রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যায়েও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউস এর প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ বাড়তে দেখা গেছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোর নেতাদের মধ্যেও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ যুদ্ধবিরতিকে ‘অকাল সমঝোতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
জনমত জরিপগুলোতেও এই অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলি লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের জনগণের প্রত্যাশা এবং বাস্তব সামরিক সক্ষমতার মধ্যে একটি ফাঁক তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধানই বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাত ইসরাইলের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।