
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর দেশের বাসভাড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আন্তজেলা, দূরপাল্লা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে।
২৩ এপ্রিল সরকার বাসভাড়া সমন্বয়ের প্রজ্ঞাপন জারি করলেও তখন বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অবশেষে শনিবার বিআরটিএর ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ভাড়া ৯০০ টাকা (৫১ আসন) ও ১,১৪৭ টাকা (৪০ আসন)।
এছাড়া সিলেট, বরিশাল ও খুলনা রুটেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ সায়েদাবাদ-টেকনাফ রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১,০৪৭ টাকা (৫১ আসন) ও ১,৩৩৫ টাকা (৪০ আসন)।
গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোর মধ্যে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের ভাড়া ১,০০৫ টাকা এবং ৪০ আসনের ভাড়া ১,২৮১ টাকা। রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটেও নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহাখালী টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ রুটে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ২৯৪ টাকা থেকে শুরু করে ৪২১ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে, যেখানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সঙ্গে কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দামও বাড়ানো হয়।
এর প্রভাবেই ২৩ এপ্রিল নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। নতুন হিসাবে মহানগরে প্রতি কিলোমিটার বাসভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়েছে। আন্তজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে যাত্রীদের স্বস্তির বিষয় হলো, ন্যূনতম ভাড়া আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে—বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খরচ বাড়ার সরাসরি প্রভাব পরিবহন খাতে পড়ায় এই ভাড়া সমন্বয় অনিবার্য ছিল, যদিও এতে সাধারণ যাত্রীদের ব্যয় আরও বাড়বে।