
টানা তীব্র তাপপ্রবাহে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
চলমান পরিস্থিতিতে গরমের তীব্রতা এবং বিদ্যুতের ঘাটতি একসঙ্গে মিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় শহরের ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে গ্রামের ঘরবাড়ি—সবখানেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি খাতে সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফসল উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিং বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এখন জাতীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো গেলে কিছুটা হলেও চাপ কমানো সম্ভব। বাসাবাড়ি, অফিস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সচেতনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
তারা আরও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ সেচ ব্যবস্থায় চাপ কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনের আধুনিকায়ন ও সিস্টেম লস কমানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তীব্র গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রত্যাশায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি।