পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি-তে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রাজধানী বামাকো-এর নিকটবর্তী কাতি এলাকায় মন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যসহ আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ও তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের সমন্বিত আক্রমণেই এই ঘটনা ঘটে।
সরকারি সূত্র জানায়, হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন নিয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। মন্ত্রী নিজেও আত্মরক্ষায় অস্ত্র হাতে লড়াই করেন, কিন্তু পরে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান।
একই সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে হামলা চালানো হয়। গাও, সেভারে এবং মোপ্তির মতো শহরেও বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
হামলার তীব্রতায় পাশের একটি মসজিদও ধসে পড়ে, যেখানে নামাজরত সাধারণ মানুষ হতাহত হন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সামরিক সরকার দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল থেকে সরকারি বাহিনী পিছু হটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা কিদাল শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে গাও ও টিম্বাকটুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত বছর এই অঞ্চলটি সরকারি বাহিনী ও ভাড়াটে বিদেশি সেনাদের সহায়তায় পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল, তবে নতুন সংঘর্ষে পরিস্থিতি আবার পাল্টে গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে মালির সবচেয়ে সংগঠিত ও বড় ধরনের হামলা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস।
অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে গঠিত নতুন আঞ্চলিক জোট এই হামলাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে এবং একে সাহেল অঞ্চলের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
সব মিলিয়ে, মালির বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, যেখানে সরকার, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক শক্তির টানাপোড়েনে দেশটি গভীর সংকটে পড়েছে।