
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়নে এবারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রায় ৫০০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জেলা, বিভাগ ও মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ১,৭২৯টি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি চূড়ান্তভাবে সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে শিল্পকারখানাগুলোকে নির্দিষ্ট এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে সচল অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা চালুর সুপারিশও এসেছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত হলে বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আইসিটি বিভাগ। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) অনলাইনে সম্পন্ন করার প্রস্তাবও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।
আগামী ৩ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হবে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন। এতে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন এবং নিজ নিজ জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরবেন।
এবারের সম্মেলনে নতুন সংযোজন হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন হওয়ায় এর গুরুত্বও বেড়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা কার্য-অধিবেশনে অংশ নিয়ে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। গত বছরের তুলনায় এবারের প্রস্তাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।