
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে আইনি সময়সীমার চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে তার সিদ্ধান্ত এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার নির্ধারিত দিন ১ মে ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন মূলত তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, যেখানে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তবে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হতে পারে।
দ্বিতীয় বিকল্প হলো কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া। যদি তিনি রিপাবলিকানদের সমর্থনে বিশেষ অনুমতি (AUMF) আদায় করতে পারেন, তাহলে আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। তবে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার কারণে এটি সহজ হবে না।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ হচ্ছে সময়সীমা উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। এতে করে তিনি আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারেন, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে তার অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের অবরোধ বা উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের পেছনে শুধু আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, বরং বৃহৎ শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতাও কাজ করছে। বিশেষ করে চীন-এর জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এখন ১ মে যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কোন পথ বেছে নেন, সেটিই নির্ধারণ করবে এই সংকটের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ।