
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে, জুন মাসে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুড তেল-এর দাম ৪৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.৬৮ ডলারে পৌঁছায়। আগের সেশনে এর দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা টানা সপ্তম দিনের মতো ঊর্ধ্বগতির ধারা বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড তেল-এর দাম ৫৮ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের ট্রেডিং সেশনেও এই তেলের দাম ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে না। প্রশাসনের মতে, এসব বিষয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এগোতে হবে।
হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের কূটনৈতিক দরকষাকষি মিডিয়ার মাধ্যমে করবে না, কারণ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের দামকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, কারণ দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।