
বাংলাদেশ ও বেলারুশ-এর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বেলারুশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রদূতও নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সার আমদানি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসে। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও বেলারুশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইতোমধ্যেই শক্তিশালী। তবে এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে বেলারুশের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, এমনকি ড্রোন সরবরাহেও সক্ষম।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া বৈঠকে কৃষি খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বেলারুশ বিশ্বের অন্যতম পটাশ সার উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য নতুন আমদানি উৎস হতে পারে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বর্তমানে বাংলাদেশ সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করে থাকে।
রাষ্ট্রদূত বেলারুশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে মন্ত্রী বলেন, কৃষিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে বেলারুশের কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করতে আগ্রহী।
বৈঠকের একপর্যায়ে বেলারুশের এক নাগরিকের ফৌজদারি মামলার বিষয়টি উত্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।