
তাদের সামরিক কৌশল ও অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ থেকে শুরু করে সমরাস্ত্র ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সবকিছু নতুন করে সাজানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তার দাবি, সীমান্ত থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা পর্যন্ত সব ইউনিটকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, স্থলবাহিনী শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, বরং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের শতাধিক আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে আধুনিক যুদ্ধবিমানও রয়েছে।
সেনা মুখপাত্র বলেন, এই অভিযানে ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) যৌথভাবে কাজ করেছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট অত্যাধুনিক ড্রোন ও যুদ্ধবিমান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু অভিযান কুয়েত, কাতার এবং ইরাকের এরবিল অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যেখানে শত্রু ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। এসব অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হলেও সামরিক প্রস্তুতি থেমে নেই। বরং এই সময়কে ব্যবহার করে নতুন অস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কৌশলগত পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন ঘটে, তবে ইরান আগের চেয়েও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তাদের হাতে এমন কিছু সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ইরানি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।