
চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। লেবানন-এর দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এই হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকর্মীরাও রয়েছেন। পাশাপাশি লেবাননের সেনাবাহিনীর দুই সদস্যসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাজদাল জোউন শহরে প্রথম হামলায় পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিলেন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সিভিল ডিফেন্স কর্মী, যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে জেবচিত শহরে আরেকটি হামলায় আরও দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক ছাড়াও বিভিন্ন সহায়তাকারী কর্মী রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
একই দিনে জুয়াইয়া শহরে পৃথক আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরাইল সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে, যা তাদের মতে সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা একটি সন্দেহজনক আকাশ লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে, তবে সেটি কী ছিল তা স্পষ্ট করা হয়নি। একই সময় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার কথাও উঠে আসে, যা ইসরাইলি সেনাদের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
এর আগে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কারণে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়, যা নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপরই একাধিক এলাকায় বিমান হামলা শুরু হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে, ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।