
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সীমিত সংস্করণের পাসপোর্টে শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সরকারি নথি ও রাষ্ট্রীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-এ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ নকশার এই পাসপোর্ট ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংস্করণে ঐতিহাসিক প্রতীক ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের ছবি ব্যবহার করা হবে, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবিও থাকতে পারে।
প্রকাশিত নমুনায় ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ওপর ট্রাম্পের একটি গম্ভীর চেহারার ছবি এবং নিচে সোনালি রঙে তার স্বাক্ষর যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। একইসাথে আরেকটি সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার স্থপতিদের ঐতিহাসিক চিত্র ব্যবহৃত হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, এই বিশেষ পাসপোর্ট সীমিত সংখ্যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইস্যু করা হবে। এটি মূলত ওয়াশিংটনে আবেদনকারীদের জন্য পাওয়া যাবে এবং অতিরিক্ত ফি ছাড়াই সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
তবে আবেদনকারীরা এই সংস্করণ গ্রহণে বাধ্য থাকবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অধিকাংশ নাগরিক সাধারণত স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন, যেখানে এই বিশেষ সংস্করণ সরাসরি পাওয়া যাবে না।
এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা একে ব্যক্তিগত প্রচারণা ও করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাধারণত পাসপোর্টে ঐতিহাসিক ঘটনা বা প্রাকৃতিক দৃশ্য ব্যবহৃত হয়। এমনকি কিছু রাষ্ট্রপ্রধান থাকলেও পাসপোর্টে তাদের ছবি ব্যবহারের নজির খুবই সীমিত। উদাহরণ হিসেবে অনেক দেশের পাসপোর্টে জাতীয় প্রতীক বা ঐতিহাসিক স্থাপনা স্থান পায়।
বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে সাধারণত স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং চাঁদে অবতরণের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়। নতুন এই উদ্যোগ সেই প্রচলিত ধারা থেকে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও প্রতীক যুক্ত করার প্রবণতা বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাসপোর্ট উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।