
বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৫ সালে শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কোম্পানির নিট মুনাফা গত বছরের তুলনায় ২৫.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৫ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই অর্জন কোম্পানিটির ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর কৌশলগত ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) ১.১১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সুদ আয় ৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ৯,৫৬০ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি পরিচালন আয় ৭.৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৪৮৪ মিলিয়ন টাকা।
বিনিয়োগ খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে, যেখানে আয় বেড়ে ৯৩.২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজারে কৌশলগত বিনিয়োগ এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে কোম্পানিটি দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। পরিচালন মুনাফা ৫.০১ শতাংশ বেড়ে ১,৮৫৩ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে।
বছর শেষে কোম্পানির ঋণ, লিজ ও অগ্রিম স্থিতি ৭৪,৬২২ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৩১ শতাংশ বেশি। আমানতও ১৪.৬০ শতাংশ বেড়ে ৬২,২৪৯ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা বাজারে কোম্পানির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা প্রতিফলিত করে।
আর্থিক সূচক অনুযায়ী, রিটার্ন অন ইক্যুইটি (ROE) বেড়ে ৬.৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য হয়েছে ১৭.৮৫ টাকা।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, ২০২৫ সালে পরিকল্পিত কৌশল, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।