
পাকিস্তানে এ-লেভেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গণিতের পিওর ম্যাথমেটিক্স-১ পরীক্ষার প্রশ্ন আগেভাগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে Cambridge International Education। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৬ সালের জুন সেশনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরীক্ষার অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে থেকেই প্রশ্নপত্রটির সমাধানসহ কপি অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বিশেষ করে Reddit এবং WhatsApp-এর মতো প্ল্যাটফর্মে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই এটি ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র কেনাবেচার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে Karachi-র একটি বেসরকারি স্কুল কেন্দ্রে। সেখানে পরীক্ষার সময়ই শিক্ষার্থীরা British Council-এর প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেন যে তারা আগেই প্রশ্নপত্রটি ইন্টারনেটে দেখেছেন। ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কেমব্রিজ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না, কারণ শিক্ষার্থীরা মূল প্রশ্নপত্রেই উত্তর লিখে থাকে। কিন্তু এবারের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় আরও গুরুতর। গত বছর কিছু প্রশ্ন আংশিক ফাঁস হলেও এবার পুরো প্রশ্নপত্রই সমাধানসহ ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রশ্ন ফাঁসের দায় স্বীকার করে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার হুমকি দিয়েছেন, যদি না কেমব্রিজ তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনে।
এর আগে এ ধরনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার যে অভিযোগ রয়েছে, এবারও Cambridge International Education সেই অবস্থান থেকে সরে আসবে কিনা, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।