
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে ইসরাইলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে।
ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক Haaretz-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই একাধিক সেনা ও নিরাপত্তা সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। একইসঙ্গে সাবেক রিজার্ভ সদস্যদের মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, Gaza Strip এবং Lebanon-এ দায়িত্ব পালন করা অনেক সেনা চরম মানসিক চাপে ভুগছেন। বিশেষ করে যারা সরাসরি সংঘাতে যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে ট্রমা এবং মানসিক অস্থিরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো Post-Traumatic Stress Disorder (পিটিএসডি)। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি দীর্ঘসময় ধরে মানুষের আচরণ ও মানসিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে। যুদ্ধক্ষেত্রের সহিংস দৃশ্য, প্রাণহানি এবং ক্রমাগত চাপ অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাতে রূপ নেয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগ উঠেছে যে অনেক ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যায় ভোগা সেনাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা কাউন্সেলিং না দিয়ে আবারও দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিও সীমিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শুধু সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ওপরই নয়, সংশ্লিষ্ট সেনাদের জীবনেও গভীর ছাপ ফেলছে। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধের প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না—এর প্রতিক্রিয়া দীর্ঘসময় ধরে সমাজ ও ব্যক্তির জীবনে বহমান থাকে।