
মহান মে দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এই বার্তায় তিনি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে International Labour Organization (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শ্রমখাতে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব শ্রমিকের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শ্রমবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রেরণাকে ধারণ করেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তিনি ১৮৮৬ সালের Haymarket affair-এ শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী মানুষই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি ও অবকাঠামোর বিকাশ ঘটে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর অবদান স্মরণ করে বলেন, শ্রমিক কল্যাণে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আজও দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকদের উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রম আইন সংস্কার, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং শ্রমিক কল্যাণমূলক তহবিল গঠনের মতো পদক্ষেপগুলো শ্রমিকদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।