
জাতীয় সংসদে দুই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (Bangladesh Securities and Exchange Commission) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (Insurance Development and Regulatory Authority)—এর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে নির্ধারিত বয়সসীমা বাতিল করে দুটি সংশোধনী বিল পাস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংসদে বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে পাসের পরপরই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণত বিল পাসের আগে হয়ে থাকে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বিল উত্থাপন করে জানান, অর্থনৈতিক খাতে নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অনেক দেশেই এ ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বয়সসীমা নেই এবং দেশের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে পুরনো নিয়ম এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।
তবে বিরোধী দল বিল পাস প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই আইনটি দ্রুত সংসদে আনা হয়েছে এবং এতে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। বিরোধী সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে।
নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইছে সেভাবেই আইন পাস করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বয়সসীমা বাতিল কি নীতিগত সিদ্ধান্ত নাকি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, নতুন সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ সীমিত হচ্ছে এবং এতে সংসদীয় চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আবারও বলেন, অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে মেধা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সবশেষে সংসদে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিএসইসি ও আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ৬৫ ও ৬৭ বছরের বয়সসীমা পুরোপুরি বাতিল করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।