
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে টানা জলাবদ্ধতায় শিক্ষাজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে বা বসে পরীক্ষাও দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের পুরো ক্যাম্পাস হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালেও শিক্ষার্থীরা পানির মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছেন। অনেক জায়গায় বেঞ্চ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে দেখা গেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা ভবনের নিচতলা সম্পূর্ণভাবে পানিতে ডুবে গেছে। একই অবস্থা কলা ভবন, মিলেনিয়াম ভবন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নিচতলায়ও দেখা গেছে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরীক্ষার্থী কামাল হোসেন ও আকলিমা আক্তার জানান, ক্লাস ও পরীক্ষার হলে যেতে তাদের পানির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কলেজের সামনে সড়কেও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক অটোরিকশা মাঝপথে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তারা অভিযোগ করেন, এই সমস্যা নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের মতে, ক্যাম্পাস উঁচু করা এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন জরুরি।
কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জিএমজি সোহরাব হাসান বলেন, নিচু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আশপাশের সব পানি ক্যাম্পাসে জমে যায়। আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং Cumilla City Corporation-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁইয়া জানান, আশপাশের এলাকা তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ পাশে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় পানি ঢোকা আরও সহজ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৪০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগ আর না ঘটে।