
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর মধ্যে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে চলতি মাসে ওয়াশিংটনে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম। এই আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৭ এপ্রিল থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা পরে আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়।
তবে যুদ্ধবিরতি চললেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সময় ইসরাইলও তাদের এক সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো আলোচনায় যাওয়ার আগে ইসরাইলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গেও আগের প্রতিশ্রুতি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মতবিরোধ তীব্র হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর চলমান অভিযান এবং তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ঘিরে সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, চলমান হামলা বন্ধ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা সম্ভব নয়।
মার্কিন প্রশাসন বলছে, সম্ভাব্য বৈঠক সফল হলে লেবানন তার সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠন সহায়তা পেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।