প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 3, 2026 ইং
ইতিহাসের রাজকীয় পাত থেকে মতিঝিলের খাবার দোকান

বৃষ্টিভেজা এক বিকেলে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় হঠাৎ চোখে পড়ে দীর্ঘ মানুষের সারি। প্রথমে মনে হলেও এটি কোনো চাকরির ইন্টারভিউ বা প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রম, পরে জানা যায়—এটি ছিল জনপ্রিয় এক খিচুড়ি দোকানের সামনে ভোজনরসিকদের ভিড়।
বৃষ্টির পর ভেজা বাতাসে গরম খিচুড়ির আকর্ষণ যেন আরও বেড়ে যায়। ফলে খিচুড়ি খাওয়ার জন্য সেখানে তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন, যা মুহূর্তেই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই জানান, বৃষ্টির দিনে গরম খিচুড়ির প্রতি মানুষের আকর্ষণ নতুন কিছু নয়। চাল ও ডালের এই সহজ কিন্তু সুস্বাদু মিশ্রণটি সময়ের সঙ্গে বাঙালির রসনার অন্যতম প্রধান খাবারে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, খিচুড়ির উৎপত্তি প্রাচীন উপমহাদেশে। সংস্কৃত শব্দ ‘খিচ্চা’ থেকে এর নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়, প্রাচীন রাজদরবারেও এই খাবারের জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক।
মুঘল আমলেও খিচুড়ি ছিল রাজকীয় খাবারের অংশ। সম্রাট আকবরের সময় দরিদ্রদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণের রেওয়াজ ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাসকের রন্ধনশালায় মাছ, ডিম ও মশলা যুক্ত নানা ধরনের খিচুড়ি তৈরি হতো।
ব্রিটিশ আমলে এই উপমহাদেশের খিচুড়ি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইউরোপে ‘কেজেরি’ নামের একটি খাবারের প্রচলন ঘটে, যা আজও পরিচিত।
আজকের আধুনিক শহরেও বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির আবেদন একটুও কমেনি। বিশেষ করে মতিঝিলের মতো ব্যস্ত এলাকায় কাজের ফাঁকে এক থালা গরম খিচুড়ি যেন মানুষের কাছে এক ধরনের স্বস্তি ও আনন্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে ইতিহাসের রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে আধুনিক নগরের ফুটপাত—খিচুড়ি এখনও বাঙালির রসনার অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক স্বাদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com