
সাইবার অপরাধের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার (৩ মে) প্রকাশিত এক প্রতিক্রিয়ায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন অপবাদ’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে উল্লেখ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে, পিয়ংইয়ং তাদের সাইবার কার্যক্রম বাড়িয়ে তুলেছে এবং এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ভার্চুয়াল সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা দেশটির জন্য এই ধরনের কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে বলেও দাবি ওয়াশিংটনের।
তবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা KCNA-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ভুয়া সাইবার হুমকি’ তৈরি করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তার মতে, এসব অভিযোগের লক্ষ্য হলো দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে গত এপ্রিল মাসে United States Department of Justice দুই মার্কিন নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করে, যারা উত্তর কোরিয়ার আইটি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রিমোট চাকরি পেতে সহায়তা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করে তা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়।
বিচার বিভাগের তথ্যমতে, বহু বছর ধরে চলা এই নেটওয়ার্কে শতাধিক মার্কিন কোম্পানি লক্ষ্যবস্তু ছিল, যার মধ্যে বেশ কিছু বড় করপোরেশন এবং প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, Google-এর বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, উত্তর কোরিয়া-সম্পর্কিত হ্যাকাররা বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার সিস্টেমে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে।
জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলায় তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছে। তাদের দাবি, এই অর্থ দেশটির গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিযোগ, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি অস্বীকার—এই দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।