
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন সামরিক ও মানবিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (৪ মে) থেকে এই অভিযানের আওতায় মার্কিন নৌবাহিনী অবরুদ্ধ পানিপথে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের জন্য সহায়তা করবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদে এই সংকটপূর্ণ অঞ্চল থেকে বের করে দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। তবে কোন দেশগুলো এই সহায়তা পাচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
বর্তমান সংকটের সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর, যখন ইরান হরমুজ প্রণালীতে কার্যত নৌযান চলাচল সীমিত করে দেয়। পাল্টা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে।
সূত্র মতে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও কর্মী দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে আটকে রয়েছেন। খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ কমে আসায় তাদের মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিরীহ নাবিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক ড্রোন মোতায়েন করা হবে।
তবে একই সময়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই অভিযানে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।
যদিও ট্রাম্প এই প্রস্তাবের কিছু অংশকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন, তবুও তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এবং অন্যদিকে সামরিক অভিযান—এই দ্বিমুখী কৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।