
হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকা সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার UNICEF অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া। তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর নিয়মিতভাবে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে টিকা ঘাটতি, রোগের বিস্তার এবং সম্ভাব্য মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া জানান, বিশ্বব্যাপী শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালে শুরু হওয়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) থেকে শুরু করে বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে চালুর পর থেকেই ইউনিসেফ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে। এই অংশীদারত্বের ফলে বাংলাদেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, UNICEF পোলিও নির্মূল, নবজাতকের টিটেনাস নিয়ন্ত্রণ, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ এবং নতুন টিকা চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি কার্যক্রমের সঙ্গে টিকাদানকে সমন্বিত করে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, ইউনিসেফ বিশ্বের শতাধিক দেশে টিকা সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশে একটি চুক্তির আওতায় সময়মতো ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা পৌঁছে দেয়। তবে ২০২৫ সালে টিকা ক্রয়ে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগত বিলম্ব ঘটে, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে টিকার ঘাটতি তৈরি হয়।
এই সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফ আগাম অর্থায়নের মাধ্যমে টিকা সরবরাহ চালু রাখে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়। তবুও কিছু টিকার মজুত শেষ হয়ে যায় এবং ২০২৬ সালের শুরুতে ঘাটতি দেখা দেয় বলে জানান তিনি।
হাম পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগ নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতা, টিকা ঘাটতি এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়া প্রাদুর্ভাব বাড়ার অন্যতম কারণ। জানুয়ারি মাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হলেও তথ্য প্রকাশে বিলম্ব পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
২০২৬ সালের মার্চে পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর ইউনিসেফ দ্রুত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর ওপর জোর দেয়, যা পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে শুরু হয়। সংস্থাটি বলছে, সময়মতো সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এমন প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ হতে পারত।