
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সাথে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে কঠোর শর্ত দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগে একটি কার্যকর নিরাপত্তা চুক্তি এবং লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে, তারপরই কোনো বৈঠকের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট আউনের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সময় এখনো উপযুক্ত নয়। আউনের ভাষায়, “প্রথমে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এরপরই কূটনৈতিক বৈঠকের প্রশ্ন আসতে পারে।”
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসি-তে ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আলোচনা শুরু হয় ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
প্রথম দফা বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৭ এপ্রিল থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র এখন দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করছে, যা হোয়াইট হাউস-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে এই সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে লেবাননের ভেতরে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। সংগঠনটির নেতা নাইম কাসেম এই উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ছাড়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আউন মনে করেন, আলোচনার পথ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। তার মতে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
লেবাননে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা বলেছেন, সম্ভাব্য বৈঠক ক্ষতিকর নয়; বরং এটি লেবাননের অবস্থান সরাসরি তুলে ধরার একটি সুযোগ হতে পারে।
বর্তমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।