
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করছে এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় আলোচনা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন-কে সতর্ক থাকতে হবে যাতে অশুভ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো সংঘাতের জালে না জড়িয়ে ফেলে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত-কেও একই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘ফ্রিডম প্রজেক্ট’-কে কটাক্ষ করে একে ‘অচলাবস্থা প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের আওতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শতাধিক যুদ্ধবিমান ও একাধিক ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়।
তবে এই পদক্ষেপে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের দাবি, তারা মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা ইরানের দ্রুতগামী নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যদিও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের কোনো নৌযান ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এদিকে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি মায়েরস্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তায় তাদের একটি জাহাজ সম্প্রতি প্রণালীটি অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ রাতে কোনো বাণিজ্যিক বা তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেনি। পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।