
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ববাজার। এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস খুঁজতে গিয়ে প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে জাপান।
দেশটির গণমাধ্যম টিভি টোকিও এবং আসাহি শিম্বুন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাশিয়ার শাখালিন-২ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের ইমাবারি উপকূলে পৌঁছেছে। পাইকারি জ্বালানি সরবরাহকারী তাইয়ো অয়েল এই আমদানির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
জাপান তার মোট তেল চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, যখন ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। ফলে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয় টোকিও।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শাখালিন-২ প্রকল্পটি বিশেষ ছাড়ের আওতায় ছিল। এই সুযোগেই জাপান নতুন করে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ গ্রহণ করছে।
আমদানি করা অপরিশোধিত তেল স্থানীয় শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল, ন্যাপথা এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। ন্যাপথা প্লাস্টিক, রাসায়নিক তন্তু ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ক্যানবেরা-তে অ্যান্থনি আলবানিজ-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে জরুরি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। জাপান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আমদানি বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যায়।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে এই নতুন জ্বালানি বাণিজ্য জাপানের কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই টানাপোড়েনে রয়েছে।