
দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি বাড়াতে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ট্যাগ ব্যবহারে নতুন করে জোর দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট ডিজাইনের জিআই ট্যাগ তৈরি করা হয়েছে এবং তা পণ্যের প্রচার, বিপণন ও প্রদর্শনীতে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় জিআই পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালা সংশোধন করে এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সংশোধিত বিধিমালায় ট্যাগের নির্ধারিত নকশা ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত ট্যাগ বিকৃতি বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জিআই পণ্য বলতে এমন পণ্যকে বোঝায়, যার বিশেষ বৈশিষ্ট্য, গুণগত মান বা খ্যাতি নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে এই স্বীকৃতি প্রদান করে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। বর্তমানে দেশের ৬২টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, যা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া নতুন কিছু পণ্যও জিআই স্বীকৃতির পথে রয়েছে। রাজবাড়ীর চমচম ও সাতক্ষীরার মাটির টালির জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় এবং জয়পুরহাটের লতিরাজ কচুকে জিআই স্বীকৃতি দিতে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সংশোধিত বিধিমালার আওতায় জিআই পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ট্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা সহজেই আসল পণ্য শনাক্ত করতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি সম্ভাবনা জোরদার হবে এবং নকল বা ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।