
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার পড়েছে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জাহাজ এবং ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে International Maritime Organization (আইএমও)।
বৃহস্পতিবার পানামায় অনুষ্ঠিত ‘মেরিটাইম কনভেনশন অব দ্য আমেরিকাস’-এ এ তথ্য তুলে ধরেন আইএমও’র মহাসচিব Arsenio Dominguez। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজারো নাবিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং বহু জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এর জেরে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইএমও মহাসচিব জানান, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত পণ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি সামুদ্রিক পথে পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আটকে পড়া নাবিকরা কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ নন। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কাজ করেন। কিন্তু নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংকটের কারণে এখন তারা মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।