
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম বিএনপি ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শাপলার শহীদগাঁথা: স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাপলা স্মৃতি সংসদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি প্রকাশ্যে এর ভয়াবহতা তুলে ধরেছিল এবং ঘটনাটিকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ১১-দলীয় জোটের নেতারা ৫ মে’র ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের নির্মম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ওই রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তদন্তে ৭২ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের প্রতিরোধ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ। তাদের মতে, উভয় ঘটনাই কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও শাপলা স্মৃতি সংসদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শাপলা চত্বরের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।