
ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক ছবিতে দ্বীপটির পশ্চিম উপকূল ঘেঁষা সাগরে বড় আকারের অয়েল স্লিক বা তেলের আস্তরণ ভেসে থাকতে দেখা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ঠিক কী কারণে এই তেল ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, পারস্য উপসাগরের ওই অঞ্চলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
তেল নিঃসরণ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান Orbital EOS জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্লেষণে প্রায় ২০ বর্গমাইল বা প্রায় ৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেলের বিস্তার শনাক্ত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, সাগরের পানির ওপর কালচে তেলের স্তর ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে পরিবেশ ও সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা Conflict and Environment Observatory সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, তেলের উৎস এখনো স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা না নিলে দূষণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী থেকে কয়েকশ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশটির বৃহত্তম তেল টার্মিনাল, পাইপলাইন, সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বড় অংশ এই দ্বীপে অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো দুর্ঘটনা ইরানের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই এই তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অবরোধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ওই অঞ্চলে বহু তেলবাহী ট্যাঙ্কার দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, উপকূলীয় পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।