
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ আগ্রাসন, বাড়াবাড়ি ও হঠকারী পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে। তার মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাকান ফিদান–এর সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে এসব মন্তব্য করেন আরাগচি। আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
টেলিফোন আলাপে আরাগচি তুরস্ককে ইরানের চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, চলমান সংঘাত বন্ধে তেহরান বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের এই আচরণ কূটনীতির প্রতি তাদের আন্তরিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আরাগচি আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য “অপমানজনক ও উসকানিমূলক”, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের বক্তব্য ও সামরিক চাপ ইরানি জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলছে।
পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোলা রাখতে হলে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সফল করতে হলে “অন্য পক্ষের অবৈধ আগ্রাসন ও অযৌক্তিক দাবি” বন্ধ হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ইরানের উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং উত্তেজনা কমাতে সংলাপকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে মনে করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক কূটনীতি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।