
ব্রাজিলের সাবেক কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সাজা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করা একটি আইন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার এই সিদ্ধান্ত দেন একজন বিচারপতি, যেখানে বলা হয় আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস জানিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্টে পূর্ণাঙ্গ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই আইন কার্যকর করা যাবে না। ফলে আপাতত আইনটির প্রয়োগ বন্ধ থাকবে।
এর আগে বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন।
পরবর্তীতে ব্রাজিলের কংগ্রেসে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থনে একটি আইন পাস হয়, যা সাজা কমানোর প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি করে। তবে পরে প্রেসিডেন্ট লুলা এতে ভেটো দেন। সেই ভেটো আবার আইনপ্রণেতারা বাতিল করলে আইনটি কার্যকর হওয়ার পথে এগোচ্ছিল।
নতুন আইনটি শুধু বলসোনারো নয়, অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে দণ্ডিত অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। এতে অনেকের সাজা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রতিটি দণ্ডিত ব্যক্তিকে আলাদাভাবে আবেদন করে সাজা পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।
এদিকে বলসোনারো বর্তমানে ২০২৩ সালের দাঙ্গা সংক্রান্ত মামলার কারণে গৃহবন্দী রয়েছেন। ওই ঘটনায় তার সমর্থকরা সরকারি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
৭১ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা আবারও সাজা বাতিলের জন্য আপিল করেছেন এবং এটিকে ন্যায়বিচারের ত্রুটি বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, যদিও তার ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।