
যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার একটি গবেষণা কেন্দ্র থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ। এই অভিযানটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি গবেষণা চুল্লি থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ কেজি ইউরেনিয়াম জব্দ করা হয়। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে স্থল ও সমুদ্রপথে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ভেনিজুয়েলার কিছু সংশ্লিষ্ট পক্ষও যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষায়, এই অভিযানকে তারা একটি “সফল ও নিরাপদ পদক্ষেপ” হিসেবে বিবেচনা করছে।
মার্কিন জাতীয় পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক বার্তা গেছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি বিশেষ নিরাপত্তা কেন্দ্রে সংরক্ষিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও এই ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
এরই মধ্যে ওয়াশিংটন কারাকাসের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আংশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আবার শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে।