
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও মতপ্রকাশে সক্রিয় ব্যক্তিরা এ সময় গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি দাবি করে, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগার এবং কবিসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা করতে গিয়ে নানা ধরনের চাপ, সহিংসতা ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশে মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা আইন, যা পূর্ববর্তী সরকার সমালোচকদের দমনে ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও অ্যাক্টিভিজম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, আইনটির কয়েকটি ধারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
পরবর্তীতে ওই আইন বাতিল করে নতুন সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা মে মাসে কার্যকর হয়। তবে এই অধ্যাদেশেও ‘অশ্লীল ভিডিও’, ‘যৌন হয়রানি’ এবং ‘সাইবার সন্ত্রাসবাদ’–এর মতো বিষয়গুলোর সংজ্ঞা অস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, এ ধরনের অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
একই প্রতিবেদনে সাংবাদিক আনিস আলমগীর–এর গ্রেফতারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। অ্যামনেস্টির দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।