
ইরান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণের আগে একাধিক শর্ত সামনে এনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে সাত দফা শর্তের কথা আলোচনায় থাকলেও এবার মোট ১০টি শর্ত তুলে ধরেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো–কে এসব শর্ত মেনে নিতে হবে। শর্ত পূরণ হলেই কেবল ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল–এর মধ্যে সশস্ত্র উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই দেশটির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের অফিসিয়াল অবস্থানে জানায়, তারা বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব শর্তের কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা নিশ্চয়তা।
বিশেষ করে মেহেদী তারেমি এবং এহসান হাজসাফি–র মতো খেলোয়াড়রা অতীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)–এ সামরিক সেবা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এই সংস্থাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে তাদের ভিসা অনুমোদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একই কারণে মেহেদী তাজকে কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইরানের দাবির মধ্যে আরও রয়েছে— বিশ্বকাপে দেশটির জাতীয় পতাকা প্রদর্শন এবং জাতীয় সংগীত বাজানোর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্চয়তাও চেয়েছে তেহরান।
মেহেদী তাজ বলেন, “আমরা আমাদের সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাই। যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এই অধিকার পেয়েছি, কোনো বহিঃশক্তি তা কেড়ে নিতে পারবে না।”
সূচি অনুযায়ী, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ইরান দল অনুশীলনের জন্য টাকসন–এ ক্যাম্প করবে। এরপর ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস–এ নিউজিল্যান্ড–এর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। একই ভেন্যুতে পরবর্তীতে বেলজিয়াম–এর মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটল–এ মিশর–এর বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান।
এখন দেখার বিষয়, ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলো ইরানের শর্তগুলো নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।