
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে একটি ‘বৈধ ও উদার’ শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সামরিক উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসবে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, তেহরান দায়িত্বশীল সমাধানের পথেই এগোতে চায়। তবে তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এখনো একতরফা ও অযৌক্তিক অবস্থানে অনড় রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ-অবরোধ বন্ধ, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়েছে, তা শুধু ইরানের নয়; বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে উত্তেজনা কমলে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইরানের যে সম্পদ আটকে রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থী। এসব সম্পদ মুক্ত করা এবং সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ইরানের এই প্রস্তাব একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে।