
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের ব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে রাজধানী থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার জারি করা ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের (ডিসিএম) সার্কুলারে বলা হয়, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে এসব বুথে অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন ব্যবহার করে সেবা দিতে হবে। হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত এসব বুথে বিনামূল্যে নোট যাচাই ও গণনার সুবিধা থাকবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ১৭ মের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সমন্বয়কারীর তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা রয়েছে, সেখানে স্থানীয় অফিসের তত্ত্বাবধানে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সমন্বয়ের কাজ করবে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি বুথে নোট গণনার জন্য কাউন্টিং মেশিন রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, হাট ইজারাদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া যাবে।
কোনো বুথে জাল নোট শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বুথগুলোতে স্পষ্টভাবে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া ঈদের আগ পর্যন্ত ব্যাংক শাখাগুলোর টিভি মনিটরে নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শনের নির্দেশও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা দেওয়া যাবে এবং ঈদের পর ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পুরো কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।