
প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দুই ঈদ এবং পবিত্র হজ মুসলিম উম্মাহকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এই ইবাদতগুলোতে কোনো বর্ণ, ভাষা বা শ্রেণিভেদ থাকে না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কায় সমবেত হন। ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান হজকে ঘিরে প্রতি বছর লাখো মুসল্লি সৌদি আরবে গমন করেন।
হজের মৌসুমে মক্কা ও মদিনায় অনেক হাজি মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামী শরিয়তে বিশেষ করে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীদের জন্য আলাদা মর্যাদা ও ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। সহিহ হাদিসে এমন মৃত্যুর পরকালের বিশেষ সম্মানের বর্ণনা পাওয়া যায়।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, আরাফাতের ময়দানে এক ব্যক্তি উট থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দেন তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে গোসল করাতে, ইহরামের কাপড়েই কাফন দিতে এবং শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার না করতে। একই সঙ্গে মাথা ঢাকতে নিষেধ করা হয়। এরপর তিনি বলেন, “কেয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।” (সহিহ বুখারি: ১২৬৫, সহিহ মুসলিম: ১২০৬)
ইসলামী আলেমদের মতে, এই হাদিস একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ইঙ্গিত দেয়। শরিয়তের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মানুষ যে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করা হবে। যেহেতু ওই ব্যক্তি হজের ইবাদতে নিয়োজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাই আল্লাহ তাকে সেই ইবাদতের অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করবেন বলে হাদিসে ইঙ্গিত রয়েছে।
হাদিসে উল্লেখিত “তালবিয়া পাঠরত অবস্থায়” পুনরুত্থানের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, এটি ওই ব্যক্তির বিশেষ মর্যাদা ও সৌভাগ্যের প্রতীক। কেয়ামতের ভয়াবহ দিনে যখন অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত থাকবে, তখন ওই ব্যক্তি হাজির মতো অবস্থায় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে দিতে উঠবেন।
এ কারণে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর দাফনের ক্ষেত্রেও কিছু বিশেষ বিধান অনুসরণ করা হয়। তাকে সুগন্ধি ব্যবহার করানো হয় না এবং মাথা ঢেকে দেওয়া হয় না, কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে তার ইহরামের অবস্থা বহাল থাকে।
ইসলামী দৃষ্টিতে হজের সফরে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকে সৌভাগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক আলেমের মতে, এটি এমন এক সম্মান যা কেয়ামতের দিনও ওই ব্যক্তিকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করবে।