
পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা এবং সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) তীব্র সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, পূর্বে অনুষ্ঠিত একাধিক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যাগুলো আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিনদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ৮ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সকল সংকটের সমাধান করা হবে। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষকদের দাবি, ৮ মে রাত ১০টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম কোনো নির্ধারিত এজেন্ডা ছাড়াই ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ পরিস্থিতিতে ১০ মে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাজের সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উপাচার্যকে ১১ মে থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া সভায় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।