
ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় দেশটিতে পুনরায় সরাসরি বিমান হামলার পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবগুলোকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, এক মাস আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি বর্তমানে “লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, পেন্টাগনের তালিকাভুক্ত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর অন্তত ২৫ শতাংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প নতুন করে বিমান হামলা শুরু এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৫ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ইরান আরও তিন থেকে চার মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। পাশাপাশি Saudi Arabia তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ এস্কোর্ট পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়ে।
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক Bagher Ghalibaf স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে বিকল্প পথ খুব সীমিত। তার ভাষায়, আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন জনগণকেই বহন করতে হবে।
ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং Strait of Hormuz এর ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি দেওয়া। তবে নিজেদের পরমাণু স্থাপনা বন্ধের মার্কিন দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তেহরান।