
ইরানের অন্তত ১০টি প্রদেশে ভারী বর্ষণ ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দফতর। রাজধানী তেহরানের পার্বত্য অঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই আবহাওয়াগত বিপদের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলীয় চাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব আজারবাইজান, আর্দাবিল, গিলান, কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, জানজান, কাজভিন, হামেদান, মারকাজি এবং আলবোর্জ প্রদেশে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া কেরমান প্রদেশ এবং উত্তর খোরাসান রাজাভির কিছু অংশেও একই ধরনের বৈরী আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই আবহাওয়া পরিস্থিতি বুধবার থেকে শুরু হয়ে কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, আলবোর্জ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢাল, কাস্পিয়ান সাগরের উপকূল এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে।
বৃহস্পতিবারও পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উঁচু এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশে ধূলিঝড় ও তীব্র বাতাস বইতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শনিবারের দিকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরও উত্তাল থাকতে পারে।
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে নদী ও খাল উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া, যান চলাচলে সমস্যা এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাত ও তীব্র বাতাসে পুরোনো গাছ, দুর্বল স্থাপনা এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে নদী, খাল ও পাহাড়ি এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করা এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পৌরসভা ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে ড্রেন পরিষ্কার রাখা, সেতু সচল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নির্মাণাধীন ভবন বা বড় গাছের নিচে গাড়ি পার্ক না করার জন্যও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।