
মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের মতো উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে গুগল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তি সফল হলে প্রযুক্তি জগতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যেতে পারে।
গুগল ইতোমধ্যে ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামে একটি মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার ধারণার ওপর কাজ শুরু করেছে। এর লক্ষ্য হলো পৃথিবীর বাইরে কক্ষপথে কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে ডেটা প্রসেসিং ও ক্লাউড প্রযুক্তিকে নতুন পর্যায়ে নিতে পারে।
অন্যদিকে ইলন মাস্ক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দেন যে স্পেসএক্স ও তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই একসঙ্গে এক মিলিয়ন কক্ষপথভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে এআই কম্পিউটিংয়ের মূল ভিত্তি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল শুধু স্পেসএক্সের সঙ্গেই নয়, আরও কয়েকটি রকেট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নে প্ল্যানেট ল্যাবসের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং ইলন মাস্ক উভয়েই মনে করেন, ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার প্রযুক্তির একটি স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠবে। এক সাক্ষাৎকারে সুন্দর পিচাই বলেছিলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনকে সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে ইলন মাস্কের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই স্যাটেলাইটভিত্তিক কম্পিউটিং এআই প্রসেসিংয়ের সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনো সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, মহাকাশে বৃহৎ পরিসরে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। মহাজাগতিক বিকিরণের কারণে স্যাটেলাইটের প্রসেসর ও জিপিইউ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ডেটা নির্ভুলতায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া মহাশূন্যে তাপ অপসারণের সীমাবদ্ধতা এবং নিম্ন কক্ষপথে লক্ষাধিক স্যাটেলাইট স্থাপনের ফলে মহাকাশের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, গুগল ও স্পেসএক্সের এই সম্ভাব্য উদ্যোগ প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন যুগের ইঙ্গিত দিলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক রয়ে গেছে।