
ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এ বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ইরানের ওপর চলমান মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে নিন্দা জানায়।
বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে আরাগচি বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলোর তথাকথিত ‘শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার’ ভেঙে দিতে সক্ষম হবে গ্লোবাল সাউথ। তার দাবি, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই চলতে হবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেহরানের প্রভাব আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে পাকিস্তান ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চীনের সহযোগিতা চাইছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেইজিং সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফর করছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে ধরনের সমর্থন চীনের কাছ থেকে প্রত্যাশা করছেন, তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এক মাস আগে সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি। এরই মধ্যে সংঘাতের প্রভাবে হাজারো প্রাণহানির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ব্রিকস জোটের ভেতরেও নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে পারে।