
ইরানে চলতি বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও রাজধানী তেহরানসহ দেশের কয়েকটি বড় নগরীতে ভয়াবহ পানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি বৃষ্টি পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও পানির চাহিদা পূরণে তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।
ইরানের আবহাওয়া অধিদফতরের প্রধান সাহার তাজবখশ মুসলিম জানিয়েছেন, চলতি পানি-বছরে দেশজুড়ে গড় বৃষ্টিপাত আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা কৃষি ও জলাধারের জন্য কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে আলবোরজ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত তেহরানসহ ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর জন্য এই বৃষ্টি পর্যাপ্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি। কারণ এসব অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত পানির ব্যবহার সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান, মাশহাদ, কারাজ, কাজভিন ও হামাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তুষার গলে বিভিন্ন বাঁধে কিছু পানি বাড়লেও রাজধানীর বিশাল চাহিদা মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়।
গত বছর তেহরানের পানি সংকট মোকাবিলায় তালেঘান বাঁধের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলে বর্তমানে ওই বাঁধের পানির স্তরও আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এতে আগামী গ্রীষ্মে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পানি সংকট সামাল দিতে এখন থেকেই কঠোর পানি ব্যবস্থাপনা, অপচয় রোধ এবং সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে ইরান সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
তবে দীর্ঘ খরার মধ্যে ইরানিদের জন্য কিছুটা আশার খবরও দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ুচক্র ‘এল নিনো’র প্রভাবে এবারের শরৎ মৌসুমে ইরানে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হতে পারে, যা দেশের পানি পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।