
জাপানের জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Honda প্রায় ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বার্ষিক লোকসানের মুখে পড়েছে। ১৯৫৫ সালের পর এই প্রথম কোম্পানিটি এমন আর্থিক ধাক্কার সম্মুখীন হলো, যা বিশ্ব অটোমোবাইল শিল্পে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে আয় কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন। এতে প্রত্যাশিত বিপুল মুনাফা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪০৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইয়েন নিট লোকসান গুনতে হয়েছে হোন্ডাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি খাতে কৌশলগত পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান বদল এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। আগে যুক্তরাষ্ট্রে ইভি ক্রেতাদের জন্য ৭ হাজার ৫০০ ডলারের কর ছাড় চালু থাকলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে আগের প্রশাসনের কঠোর নির্গমন নীতিমালাও শিথিল করা হয়েছে, যা বাজারে ইভির চাহিদা কমিয়ে দেয়।
অটোমোবাইল শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বাজার ধরতে ইভি প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক কোম্পানিকে তাদের ইভি প্রকল্পের আর্থিক মূল্য কমিয়ে দেখাতে হচ্ছে, যা সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক নির্মাতা আবার পেট্রোলচালিত ট্রাক ও এসইউভির বাজারে মনোযোগ বাড়াচ্ছে। কারণ এসব গাড়ি এখনো তুলনামূলক বেশি লাভজনক। তবে আগের বিপুল ইভি বিনিয়োগ থেকে দ্রুত লাভ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শুধু হোন্ডাই নয়, General Motors, Ford Motor Company এবং Stellantis-এর মতো বড় কোম্পানিগুলোকেও ইভি খাতে আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে।
তবে বৈশ্বিক বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কঠোর পরিবেশ আইন চালুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি China-এর ইভি নির্মাতাদের বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা বিশ্ব অটোমোবাইল শিল্পে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।