পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় একটি দোতলা ভবনও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুনে কীটনাশক, সার, মুদি ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মুহূর্তেই আগুনের কবলে পড়ে। দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত পুরো বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর নেছারাবাদ ইউনিটের দুটি টিম। তাদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এবং বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তাদের আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান, দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা কোনো কীটনাশকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নেছারাবাদ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানমাল রক্ষা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।